Home / মিডিয়া নিউজ / আমার জীবনে অবসর বলতে কিছুই নেই : ডা. এজাজ

আমার জীবনে অবসর বলতে কিছুই নেই : ডা. এজাজ

চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। অভিনয়ের পাশাপাশি

চিকিৎসক হিসেবেও তিনি বেশ পরিচিত। অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে

কথা বলেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গাজী আনিস

বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বলুন

উত্তরায় আরটিভির ‘বাজিমাত’ ধারাবাহিক নাটকের শুটিং করছি। নাটকটি পরিচালনা করছেন মুসাফির রনি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি ধারাবাহিকের কাজ চলমান। এর মধ্যে আছে শান্তি মলম ২০ টাকা, চিটার অ্যান্ড জেন্টেলম্যান, মেহমান, মাশরাফি জুনিয়র। জাহিদ হাসানের একটি ধারাবাহিকেও দ্রুত কাজ শুরু করব। এ ছাড়া দুটি সিনেমায় কাজের কথাও চলছে।

আপনি হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সঙ্গে নাটক-চলচ্চিত্রে অনেক কাজ করেছেন। বর্তমান পরিচালকদের সঙ্গে কাজের পার্থক্য কী?
স্যারের স্ক্রিপ্ট ও নির্দেশনা অনেক ভালো ছিল। স্যার যত্ন নিয়ে নাটক-সিনেমা বানাতেন। এখনকার স্ক্রিপ্ট খুব একটা ভালো না, কাজের ক্ষেত্রেও তেমন গুরুত্ব নেই। নির্মাণের সময় হাতে সময় খুব কম থাকে। এখনকার পরিচালকদের ভয় থাকে কাজ ছুটে যাওয়ার। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য পরিচালক ও শিল্পীদের নাভিশ্বাস ওঠে যায়। তবে এক ঘণ্টার নাটকগুলো কিছুটা ভালো হয়। দুই-একটা ছাড়া অধিকাংশ ধারাবাহিকের কাজ এখন ভালো হয় না। যেখানে তাড়াহুড়া থাকে সেখানে অভিনয়, গল্প, নির্দেশনা সবই খারাপ হয়।

দেশীয় নাটকের সমালোচনা কীভাবে কাটিয়ে উঠা সম্ভব?
ভালো মানের কাজে মনোযোগ দিতে হবে। টাকা ও সময়ের কারণেও মনোযোগ উঠে যায়। কাজে যখন মনোযোগ বেশি থাকবে পরিচালক কম বাজেটের কাজ করবেন না, প্রযোজক কম বাজেটে নাটক বানাবেন না। সবার আন্তরিকতা ও মনোযোগ ফিরলে নাটকের কাজ ভালো হবে।

আপনাকে ওয়েব কনটেন্টে দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ কী?
আমি এখনও ওয়েব কনটেন্টের কোনো কাজ করিনি। কয়েকজন ওয়েব কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার জন্য যোগাযোগ করেছেন। টেলিভিশনের কাজে মাসে ১০-১২ দিন সময় চলে যাচ্ছে। এর মাঝে ওয়েব কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে না।

চেম্বারে কখন সময় দেন?
গাজীপুরের চেম্বার আমার মূল জায়গা, ওটা আমার মূল কর্মক্ষেত্র। আমার প্রধান কাজ চিকিৎসা, তারপর অভিনয়। মাসে ২০ দিন চেম্বারে বসি, ১০ দিন শুটিং করি। তবে শুটিংয়ের চাপ বেশি পড়লে ১২-১৪ দিন শুটিং করা হয়।

চিকিৎসা পেশা থেকে যারা অভিনয়ে আসতে চান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
যারা চিকিৎসাসেবায় যাবেন, তাদের অভিনয় করা উচিত না। চিকিৎসাসেবাতেই মনোনিবেশ করে থাকবেন। দুই নৌকায় পা দেওয়া ঠিক না। আমি দুই নৌকাতে পা দিয়ে ভুল করেছি। আমার ডাক্তারি করাটাই উচিত ছিল। এখন সময়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আছি। একটা মানুষের জীবনে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দরকার। আমার জীবনে বিশ্রাম নাই।

অবসর সময় কীভাবে কাটে?
ব্যক্তি জীবনের জন্য খুব কম সময় বরাদ্দ। কারণ আমি ডাক্তারি পেশায় জড়িত। শুটিং ও ডাক্তারি দুই মিলিয়ে জীবন চলছে। জীবনে অবসর বলতে কিছুই নেই। একটা ধারাবাহিকের কাজ করতে কক্সবাজার যাব। একটা দৃশ্যের মাঝে যদি ১০ মিনিট সমুদ্রের পাড়ে বসে থাকার সুযোগ পাই, ওটাই জীবনের অবসর। আর সারা দিন কাজের শেষে বাসায় ফিরে যদি ১ ঘণ্টা সময় পাই, বউ-বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে সময় পাই করি, এভাবেই জীবনের অবসর খুঁজে নিই। জীবনের জন্য যে ১৫ দিনের অবসর পাব, ওই ভাগ্য আমার নাই।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলুন
খুব বেশি পরিকল্পনা করি না। দেখা যাচ্ছে নানা পরিকল্পনা করে বসে আছি হঠাৎ মারা গেলাম। তখন সব শেষ হয়ে যাবে। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করব। ভবিষ্যতে যাই করি অভিনয় করে যাব। সেটা যে মাধ্যম হোক না কেন। টেলিভিশন, সিনেমা, ইউটিউব সবই তো মিডিয়া। যেখানে অভিনয় আছে আমি থাকব। যতদিন বাঁচি অভিনয় করে যাব। মাধ্যম কোনটা হবে তা বড় বিষয় না। তবে অভিনয় কমিয়ে চিকিৎসায় আরও বেশি সময় দেব।

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *