Home / মিডিয়া নিউজ / আমরা ইচ্ছে করলে যা খুশি করে ফেলতে পারি না

আমরা ইচ্ছে করলে যা খুশি করে ফেলতে পারি না

অভিনেতা ও নির্মাতা হিসেবে জনপ্রিয় নাদের চৌধুরী। পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় তিনি। চার

দশকের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সময়ের আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গাজী আনিস

কেমন আছেন? শুটিংয়ে ফিরেছেন?

করোনাকালে টিকে আছি বলা যায়। গতবছর করোনা হয়েছিল। মাঝে একবারে কাজ বন্ধ ছিল। রিস্ক

নিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন’-এ অভিনয় করেছি। জি ফাইভে নতুন কাজ শুরু করব। আগামী মাস থেকে শুটিং।

সিনেমা হল খুলেছে, অনেকেই চলচ্চিত্র মুক্তির কথা ভাবছেন; আপনার ছবির খবর কী?

করোনাকালে বিনোদন জগতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে। কারণ আমাদের কাজ তো মাঠে-ময়দানে বেশি। আর জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবি ‘জ্বীন’। এটি আমি পরিচালনা করেছি। কারণ হল খুললেও দর্শক কতটুকু সেখানে দেখতে যাবেন তা নিয়ে শঙ্কা। তাদের এখনই মুক্তি দেওয়ার চিন্তা নেই। তবে ছোট বাজেটের ছবি কেউ কেউ মুক্তি দিতে চাচ্ছেন, কিন্তু বড় বাজেটের ছবি মুক্তি দেওয়া যাচ্ছে না।

ওটিটি প্লাটফর্মকে কীভাবে দেখছেন?

ওটিটি এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে গত কয়েক মাস শুটিং বন্ধ ছিল। আর শুটিং বন্ধ থাকলে ওটিটির জন্যও কনটেন্ট বানানো যায় না। আমরা তো মাস্ক পরে অভিনয় করতে পারি না। সুতরাং ওটিটিতে ছবি মুক্তি দিতে হলেও শুটিং করার সুযোগ পেতে হবে।

‘জ্বীন’ চলচ্চিত্র নিয়ে বলুন…

আমাদের দেশে ‘জ্বীন’ মানে কদাকার চেহারা ভাবা হয়। জিন নিয়ে ধর্মীয় কিছু ব্যাপারও আছে। কিন্তু এটি সাইকো থ্রিলার ছবি। কমার্শিয়াল ঘরানার ছবি। এতে যারা অভিনয়ে ছিলেন অনেক ভালো করেছেন। টুকরো অংশগুলো আগেই দর্শকমনে সাড়া ফেলেছে। আর এর স্টোরি বোর্ড তৈরি করেছি হলিউড থেকে।

চলচ্চিত্র-নাটকে প্রযুক্তির ব্যবহারে কী সংযোজন করা যেতে পারে?

আমরা আসলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেক পিছিয়ে। আমাদের সামাজিক বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আছে। সেন্সর বোর্ডের অনেক সমস্যা। নাটক-চলচ্চিত্র মুক্ত করে দেওয়া উচিত। এসব ক্ষেত্রে অনেক বেশি উদার হতে হবে। আমাদের দেশে অভিনয়, পরিচালনা শেখার জন্য তেমন কোনো ইনস্টিটিউট নেই। এই প্রজন্মের যারা যুক্ত হচ্ছে অনেকের একাডেমিক জ্ঞান নেই, সবাই অনুমাননির্ভর কাজ করছেন। এক্ষেত্রে চলচ্চিত্র ও নাটক অনেক বেশি পিছিয়ে দিচ্ছে। যারা শিখে কাজ করেছেন তাদের কাজ ভালো হচ্ছে, তবে সংখ্যা কম। এ ছাড়া আমাদের এখানে স্পন্সরও কম। সরকারিভাবে যে অনুদান দেওয়া হয় তা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক আছে।

অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা হচ্ছে

যারা সমালোচনা করছেন আগে তাদের নিজের দিকে দেখা দরকার। অন্যদিকে এখন হাজার হাজার শিল্পী, প্রযোজক ও কলাকুশলীও দেখছি তাদের কার কী কাজ আছে? কোন স্তরে তারা আছেন সেটাও দেখতে হবে। আর একটা ঘটনা থেকে ঢালাওভাবে কাউকে দোষ না দিই। শিল্পীরা যাই করুক না কেন, সমাজের জন্য অত ক্ষতিকর নয়। আর আমরা ইচ্ছে করলে যা খুশি করে ফেলতে পারি না।

অভিনয় জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে বলুন

পৃথিবীর সব শিল্পী প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিতে ভোগেন। আমি বলব না, খুব বেশি অর্জন করেছি। আবার খুব বেশি অপ্রাপ্তি আছে এমনও নয়। এই ছোট দেশে যা পেয়েছি সেটা অনেক বেশি পাওয়া।

আপনি একই সঙ্গে অভিনেতা ও নেতা। দুটোকে একসঙ্গে কীভাবে সামলান?

অভিনয় আমার নেশা ও পেশা। সুতরাং এটা আমার প্রথম গুরুত্ব। আর প্রতিটা মানুষকে রাজনীতিসচেতন হওয়া দরকার। রাষ্ট্রব্যবস্থা, দেশের অর্থনীতি, দেশ কীভাবে চলছে তার ওপর নির্ভর করে আমি কীভাবে চলব। আমি স্কুলজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, একজন রাজনীতিসচেতন মানুষ আমি। দেশের বিভিন্ন অবস্থা দেখে আমার মনে হয়েছে আমাদের জন্য সমাজতন্ত্র খুবই প্রয়োজন।

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *