Home / মিডিয়া নিউজ / ঘরের কাজ করে যে সময় পাই ওয়েব সিরিজ দেখি : মৌটুসী

ঘরের কাজ করে যে সময় পাই ওয়েব সিরিজ দেখি : মৌটুসী

অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস। এক বছর পর সামির আহমেদ পরিচালিত ‘স্পটলাইট’ স্বল্পদৈর্ঘ্য দিয়ে

অভিনয়ে ফিরলেন এই অভিনেত্রী। অভিনয় ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার

নিয়েছেন মোহাম্মদ তারেক ‘স্পটলাইট’ দিয়ে পর্দায় ফিরলেন… স্পটলাইটের নিচে থাকা একজন

নারীর জীবনে অবস্থানের পরিবর্তন দ্রুত হয়। অবস্থান পরিবর্তনের সেই সময়টা এখানে দেখানো হয়েছে। স্বল্পদৈর্ঘ্য না হলে আরও বড় পরিসরে মুহূর্তগুলো দেখানো যেত। প্রথমে অস্বীকৃতি, তারপর রাগ এবং সবশেষে মেনে নেওয়া, ‘নাবিলা’ চরিত্রের মাধ্যমে এই ব্যাপারগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সহশিল্পী হিসেবে রুবেল ভাই চমৎকার। তার সঙ্গে কাজ করে ও অভিনয় দেখে খুব ভালো লেগেছে।

দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন? আসলে সাড়া পাওয়ার আগেই দুদিনের নোটিসে স্ট্রিমিং শুরু হয়ে গেছে। কনটেন্টটা একটু আলাদা। কিন্তু দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি।

প্রায় এক বছর পর আপনাকে পর্দায় দেখা গেল। অভিনয়ে এমন বিরতির কারণ কী? অভিনয় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কয়েক বছর আগেই নিতে চেয়েছিলাম। ধারাবাহিকে কাজের জন্য তা পারছিলাম না। গত বছর লকডাউন শুরু হলে বটতলা, প্রাচ্যনাটসহ আমেরিকার কিছু অনলাইন ক্লাস করা শুরু করলাম। আমি আগে কাজ করতে গিয়ে শিখেছি। ওয়ার্কশপগুলো করে মনে হচ্ছিল এ জার্নির জন্য কয়েক বছর ধরে অপেক্ষা করছিলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম এ জার্নির সঙ্গে থাকব। তখন ‘আড়াই মণ স্বপ্ন’ কাজটি করি। মাঝে সেঁজুতি টুসির একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যরে কাজ শেষে ‘স্পটলাইট’ করলাম।

আগের কাজগুলোর সঙ্গে চলতি সময়ে করা কাজের কী পার্থক্য উপলব্ধি করছেন? আগের চরিত্রগুলোতে আমার সঙ্গে কতটা মিল আছে তা দেখে কাজ করতাম। এখন খুঁজে দেখি চরিত্রটির সঙ্গে অমিল কতটা। এজন্য নির্মাতার সঙ্গে চরিত্রের খুঁটিনাটি নিয়ে আলাপ করে তা বোঝার চেষ্টা করি।

ওটিটি প্লাটফর্মের কনটেন্ট কেমন হওয়া উচিত? আমাদের দেশে থ্রিলারভিত্তিক কাজ তুলনামূলক বেশি হয়ে যাচ্ছে। অন্য ঘরানার কনটেন্ট থাকলেও প্রচার কম হওয়ায় দর্শক জানছে না। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের ব্যতিক্রমধর্মী কাজের সংখ্যা বাড়বে। সবরকম কাজ হলে দর্শক বাড়বে। কারণ থ্রিলার ট্রেন্ড হয়ে গেলে দর্শক একটা সময় বিরক্ত হতে পারে।

টিভি নাটকেও দেখা যায় কোনো গল্প দর্শকপ্রিয় হলে একই ঘরানার নাটক বারবার বানানো হচ্ছে… এটা ভীষণ ক্ষতিকর। বিটিভিতে এক সময় প্রতিযোগিতা ছিল। সাপ্তাহিক ও ধারাবাহিক নাটকের গল্পে বৈচিত্র্য আনতে চেষ্টা করত সবাই। এটা আস্তে আস্তে কমে গেল। কারণ একটি টিভি নাটক জনপ্রিয় হলে সেটি কপি করা সহজ। অনেকে তাই করতে শুরু করল। যাদের মেধা নেই তারা তারকা শিল্পীদের নিয়ে এমন কাজ করছে। একই ঘরানার কাজ দেখে দর্শক এক সময় টিভি নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। ইউটিউবের নাটকও মানুষ একই কারণে দেখছে না। তারা পয়সা খরচ করে অ্যাপে দেখছে। এখানে বৈচিত্র্য না থাকলে দর্শক আর পয়সা খরচ করবে না।

একের পর এক ওটিটি প্লাটফর্ম আসছে… যারা নানারকম কনটেন্ট দিতে পারবে তারাই টিকে থাকবে। দর্শকই ঠিক করবে তারা কোন প্লাটফর্মের সঙ্গে থাকবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের কাজ করার মতো নির্মাতা আছে। অভিনয়শিল্পীরাও কাজ করতে আগ্রহী। আমাদের কাজ বাইরের উৎসবে যাচ্ছে। কিন্তু নিজেদের আন্তর্জাতিক মানের ভাবতে পারছি না। ট্রেন্ডের বাইরে যেতে পারি না। সবাই ভালো কাজ করতে চান। অনেক সময় কাজের সুষম বণ্টনটা হয় না।

ধারাবাহিক নাটকে কাজ করছেন না কেন? চিত্রনাট্য, গল্প ও চরিত্রের ধারাবাহিকতা না থাকায় মন খারাপ হয়। এজন্যই করা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, চরিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে না পেরে ওয়েব ফিল্ম, ফিচার ফিল্ম করতে রাজি হইনি। এগুলো ঠিক থাকলে যেকোনো প্লাটফর্মে কাজ করব।

লকডাউনের দিন কেমন যাচ্ছে? অনেকে বলে বাসায় সময় কাটে না। আমি তো অবসরই পাই না। ঘরের কাজ করে যে সময় পাই তখন ওয়েব সিরিজ দেখি। ইদানীং রিডার্স ব্লক চলছে। না হয় বই পড়ি। ওয়ার্কশপের কাজ করি। বাচ্চার সঙ্গে সময় কাটাই। ঘরকুনো মানুষের ঘরে থাকতে অসুবিধা হয় না। আমার বাসায় থাকতে ভালো লাগে।

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *