Home / মিডিয়া নিউজ / ‘দুবার প্রেমে পড়া আমার জন্য একটা সুন্দর অ্যাকসিডেন্ট ছিল : সেলিম খান

‘দুবার প্রেমে পড়া আমার জন্য একটা সুন্দর অ্যাকসিডেন্ট ছিল : সেলিম খান

যে কোন মশলাদার হিন্দি ছবির মতোই বাস্তবেও সেলিম খানের জীবন অনেক রঙিন এবং ঘটনাবহুল ছিল।

অবশ্য এর পিছনে ছিলেন দুজন মহিলার অনেক বড় ধরনের অবদান। তারা হলেন সুশীলা চরক এবং হেলেন।

আজকে আমরা সালমানের পিতা সেলিমের রোম্যান্টিক জীবনের কথা একবার শুনে নেব।

১৯৩৫ সালে ইন্দোরে জন্মগ্রহণ করেন সেলিম। ২৩ বছর বয়েসে অভিনয় জীবনে হাতেখড়ি হয় তার।

ইন্ড্রাস্টিতে আসার কয়েকবছরের মধ্যেই ১৯৬৪ সালে উনি সুশীলা চরককে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সুশীলার নাম পাল্টে হয় সালমা খান।

একটা সাক্ষৎকারে সেলিম বলেছিলেন, পাঁচ বছর সুশীলার সঙ্গে প্রেম করার পর’ তাদের বিয়ে হয়। ওই একই সময় সেলিম দ্বিতীয়বার লাস্যময়ী হেলেনের প্রেমে পড়েন। অবশ্য হেলেনের সঙ্গে বিয়ের বহু আগে থেকেই পরিচয় ছিল সেলিমের। উনি হেলেনের সঙ্গে ’তিসরী মঞ্জিল’ শরহদি লুটেরা-র মতো ছবিতে অভিনয়ও করেছেন।

হেলেনের সঙ্গে বহু বছর প্রেম করার পর অবশেষে ১৯৮০ সালে উনি এই লাস্যময়ী অভিনেত্রীকে বিয়ে করেন। একটা সাক্ষাৎকারে সেলিম বলেছিলেন ’হেলেনের সঙ্গে ঠিক কখন প্রেমে পড়েছিলাম জানি না। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করার পর আমরা ১৯৮০ সালে বিয়ে করি। ’যথারীতি তার এই দ্বিতীয় বিয়ে তার প্রথম স্ত্রী এবং সন্তানরা মেনে নিতে পারেননি। হেলেন তখন জানিয়েছিলেন এই পরিস্থিতির কথা তারা আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলেন। তাই বহুবার সম্পর্ক ভেঙে দেয়ারও চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই তা করতে পারেননি।

হেলেনের কথায় ’সেলিম একজন বিবাহিত পুরুষ ছিল। আমি তার জীবনে আসার পর প্রথমদিকে নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছে।’ কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেননি উনি। উনি পরে অন্য একটা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ’সেলিম অন্যদের মতো নয়’ উনি আমার কাছ থেকে কোনদিন কোনরকম সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেননি। এমনকী আমার দুঃসময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন’ বিনিময়ে কিছুই চাননি।’

সেলিম এবং হেলেনের বিয়ের পর তাদের প্রেম দেখে অনেকেই মেনে নেন যে তারা যেন একে অপরের জন্যই তৈরি হয়েছিলেন’ অর্থাৎ ’মেড ফর ইচ আদার’। কিন্তু প্রথম স্ত্রী সালমা এবং তার সন্তানরা খুবই দুর্ব্যবহার করতেন হেলেনের সঙ্গে।

এই ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে সেলিম বলেছিলেন তার সন্তানদের যেমন ওদের মা শেখাতো সেইভাবেই তারা ব্যবহার করত হেলেনের সঙ্গে। কিন্তু সব কিছুই মুখ বুজে সহ্য করতেন হেলেন। তাই হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই সালমা এবং তার সন্তানরা বুঝতে পারে হেলেন একজন খুবই ভালো মহিলা। ধীরে ধীরে সবাই তাকে গ্রহণ করে নেয়। এমনকী সেলিমের প্রথম পক্ষের সন্তানরা হেলেনকে নিজের মায়ের মতোই ভালোবাসতে শুরু করেন।

তবে সব সন্তানদের মধ্যে সালমান কিছুদিনের মধ্যেই হেলেনের ফেভারিট বাচ্চা হয়ে ওঠে। সালমান বহুবার জানিয়েছেন’ উনি হেলেনকে এতটাই ভালোবাসেন যে তার জন্য নিজের জীবনও দিয়ে দিতে পারেন।

শুধু তাই নয় সালমা এবং হেলেনের সম্পর্কও যে কতটা ভালো তা দেখা যায় একবার একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্টের জন্য যখন হেলেনের নাম ডাকা হয় সালমা খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরেন হেলেনকে।

সেলিম-হেলেনের লাভ স্টোরির হ্যাপি এন্ডিং হয়েছে’ কিন্তু সেলিম জানিয়েছেন দুই স্ত্রীর সঙ্গে একই বাড়িতে থাকা কোন অ্যাডভেঞ্চারের চেয়ে কম নয়। ডিএনএ কে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেলিম জানিয়েছিলেন ’দুবার প্রেমে পড়া আমার জন্য একটা সুন্দর অ্যাকসিডেন্ট ছিল। আমি শেষ অবধি যে ওই দুর্ঘটনা সার্ভাইভ করতে পেরেছি তার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। কিন্তু তাও আমি সবাইকে উপদেশ দেবো এমনটা না করতে।’

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *