Home / মিডিয়া নিউজ / বর্তমান সময় খুব কঠিন যাচ্ছে, আল্লাহ যে পরীক্ষায় আমাদের ফেলেছেন তাতে পাশ করতে হবে:মিশা

বর্তমান সময় খুব কঠিন যাচ্ছে, আল্লাহ যে পরীক্ষায় আমাদের ফেলেছেন তাতে পাশ করতে হবে:মিশা

দেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে অনেক ভক্তদের মাঝে কৌতূহল দেখা দেয় আর তা হল এই

সকল অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কি সঠিক ভাবে ধর্ম পালন করেন। আবার অনেকে মনে করেন মিডিয়াতে

যারা কাজ করে তারা সবাই ধর্ম নিয়ে উদাসীন। তবে এটা আদো সঠিক নয়। সকল অভিনেতা-অভিনেত্রী

তাদের নিজ নিজ স্থান থেকে ধর্ম পালন করে থাকেন। অনেক মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রী রোযা রাখেন। আবার রোযা রেখে তাদের কাজও করেন। এছাড়া সবার মত তাদেরও রোযা নিয়েও অনেক স্মৃতি রয়েছে। এই সকল স্মৃতি তারা ফেলে আসেছে শৈশবে। আর এবার বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর তার শৈশব ও বর্তমান সময়ের অনেক কথা বলেছে। তিনি বর্তমানে শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন।

প্রথম রোজা রাখার মধুর স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাই।

মিশা : স্পষ্ট কিছু মনে নেই। সম্ভবত তখন ক্লাশ ফোরে পড়ি। বয়স কত হবে, আনুমানিক ১১ কি ১২। বাড়িতে সবাই রোজা রাখতো। আমার বড় ভাই বোনেরাও। সন্ধ্যায় দেখতাম সবার কত গুরুত্ব। থালার পর থালা খাবার সাজিয়ে দেয়া হতো সবাইকে। আর আমি রোজা রাখতাম না বলে আমার দিকে কেউ মনযোগ দিতো না।

সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, বেশি করে সুস্বাদু খাবারের জন্য রোখা রাখার চেষ্টা করতাম। মজার দিন ছিলো।

প্রথম ইফতার বা সেহরির কোনো স্মৃতি কি মনে পড়ে?

মিশা : প্রথম ইফতার বা সেহরি মনে নেই। ছোটবেলাটা অনেক স্মৃতির। তখন রোজাগুলো আসতো অনেক আনন্দ নিয়ে। সব স্মৃতিই মজার ও স্পেশাল। আমি পুরান ঢাকার ছেলে। চকবাজার থেকে ইফতার আসতো রকমারি। সেহরির খানাদান আনা হতো। সেসব খাবার অমৃত মনে করে খেতাম। সারাদিন রোজা রেখে অপেক্ষা করতাম কখন ইফতারের সময় হবে।

রোজার মজার কোনো স্মৃতি…

মিশা : বিশেষভাবে বলতে গেলে বলবো ছোটবেলায় রোজা রাখার সময় যে গুরুত্বটা পেতাম সেটা খুব এনজয় করতাম। মনে হতো আমিও বড় হয়েছি।

একবার আমের সিজনে আড়তে গিয়েছিলাম। ল্যাংড়া আমের ঘ্রাণ চারদিকে। কত সুন্দর সুন্দর আম। খেয়ে ফেললাম। পরে মনে পড়লো আমি তো রোজা। আম্মাকে বললাম লজ্জা নিয়ে। আম্মা বললেন ভুলে খেয়েছো কিছু হবে না।

আর বড়বেলার ইফতারের একটা ইফতারের স্মৃতি খুব মনে পড়ে। পাগল তোর জন্য রে সিনেমার সেটে ছিলাম। আমি, রিয়াজ, শাবনূর আর এটিএম শামসুজ্জামান সাহেব। আযানের সময় পেরিয়ে যাচ্ছিলো। শোনা যাচ্ছিলো না। সময় দেখার সুযোগও ছিলো না। আমি বলছিলাম আযান হয়ে গেছে। খাওয়াও শুরু করেছিলাম। পরে দেখা গেল আমার অনুমান সঠিক ছিলো। সবাই খুব মজা করছিলো তখন আমার টাইম সেন্স নিয়ে।

বড় বেলার রোজা আর এখনকার রোজায় কী পার্থক্য পান?

মিশা : অনেক অনেক পার্থক্য। আগে রোজা রাখা হতো মজার মজার খাবার বেশি করে খাবার লোভে। বড় হবার চেষ্টায়। আর এখন খাওয়া দাওয়া কোনো বিষয়ই না। আল্লাহকে খুশি করা, ইবাদাত করাই মুখ্য। শৈশবের সবই শিশুসুলভ।

ইফতার ও সেহরিতে কী ধরনের খাবারকে প্রাধান্য দেন?

মিশা : ২৫ বছর ধরে তো বেশিরভাগ সময় শুটিং সেটেই ইফতার করা হয়। সেখানে যা থাকে তাই খাই। এমনিতে পুরান ঢাকার লোক আমি। ইফতারে ঐতিহ্যবাহী খাবার থাকে। তবে সেহরিতে একটু খেজুর, এক গ্লাস দুধ হলেই হয়ে যায়।

শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে বেশ কিছু কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে অসহায় শিল্পীদের জন্য। পরিকল্পনাগুলো জানতে চাই।

মিশা : সমিতির সভাপতি হিসেবেই না একজন সচ্ছল শিল্পী হিসেবে আমি সবসময়ই অসহায় ভাইবোনদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। করোনা ও রোজার উপলক্ষে সমিতি থেকে অনেক শিল্পীদের খাবার দাবার দেয়া হয়েছে। সামনে আরও দেয়া হবে।

এবারের রোজায় বিশেষ কী প্রার্থনা করছেন?

মিশা : রোজা হলো মুসলমানের জন্য বিরাট সুযোগ। আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত পাওয়ার মাস এইটা। হাদীস আছে এই রোজা শেষে একজন বান্দাকে আল্লাহ শিশুর মতো নিষ্পাপ হওয়ার সুযোগ দেন। প্রথমত আমি সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।

তারপর অবশ্যই এবার করোনার হাত থেকে যেন আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন সেই দোয়া করবো। এটা এবারের রোজায় সবাই প্রার্থনা করবেন। আমরা চাই আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করে দেবেন। আবার পৃথিবী স্বাভাবিক হবে। আমিও সবার কাছে আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য দোয়া চাই।

উল্লেখ্য, এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী তার ধর্ম পালনে সব সময় সজাগ রয়েছে। তিনি তারা কাজ সাথেও সব সময় তার ধর্মকে বেশি প্রধান্য দেন। এছাড়া তিনি তার পরিবারের সাথে অনেক সময় কাটান। তার পরিবারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। এদেরকেও তিনি ধর্মের বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দেন। আর তার যত কাজের ব্যস্থতা থাক না কেন তিনি তার ধর্ম সময় পালন করেন।

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *