Home / মিডিয়া নিউজ / এফডিসিসির যত খাবার

এফডিসিসির যত খাবার

চলচ্চিত্র, টিভি অনুষ্ঠান আর বিজ্ঞাপনের সমানতালে শুটিং হয় এফডিসিতে। শুটিংয়ের মাঝে

খাবারটাও একটি বিষয়। দূর দুরান্ত নয়, এফডিসির খাবারেই সন্তুষ্ট বড় বড় তারকারা।

শত শত কলাকুশলিদের খাবার নিয়ে কোনো ঝক্কি নেই, স্বাস্থ্যসম্মত আর সুস্বাদু খাবারের

উপায় হাতের কাছে। এক কথায়, ’অল্প টাকায় অর্ডার করো, পেটপুরে খাও।’ আপনি যত বড় তারকা হোন। কি খেতে চান? ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এফডিসিতে যারা খাবার সরবরাহ করে। তাদের চ্যালেঞ্জটাই এমন।

শুধু যে তারকা বা শুটিং সংশ্লিষ্টরা খেয়েছেন এমনটা নয় কিন্তু। শুটিং দেখতে গিয়ে খেয়েছেন এমন মানুষও প্রতিদিন কম পাওয়া যায় না। তাহলে জানা যাক সেসব খাবার কতটা স্বাস্থ্য সম্মত? কীভাবে তৈরী হয় এসব খাবার?

এফডিসির ক্যান্টিন তো আছেই। বিভিন্ন শুটিং স্পটে খাবার সরবরাহ করা হয় অন্য জায়গা থেকেও। এফডিসিতে ঢুকেই কয়েক গজ দূরে হাতের বায়ে গাড়ির গ্যারেজের চিপায় গড়ে উঠেছে কিছু খাবার হোটেল। জানা যায়, মূলত এখান থেকেই শুধুমাত্র এফডিসিতেই নয়, ঢাকা, উত্তরা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানের শুটিং স্পটে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্যাকেজের ৮০-১০০ টাকায় ভাতের সঙ্গে মাছ, মাংস, সবজি, ভর্তা, ডালের প্যাকেজ পাওয়া যায়। অর্ডারকারী পরিবহন খরচ বহন করেন। এফডিসিতে বেশ বিখ্যাত হয়ে উঠছে কালুর হোটেল, সালেক হোটেল ও হালিম হোটেল। বছরের পর বছর খাবার সরবরাহ করে নিশ্চিন্ত রাখছে সবাইকে।

যা পাওয়া যায়:

নিয়মিত খাবারের তালিকায় আছে ভাত, গরুর কালাভুনা, মুরগির ঝাল ফ্রাই, ছোট ও বড় মাছ, ডাল, নানা ধরনের সবজি ও ভর্তা। এছাড়া পোলাও, বিরিয়ানি ও খিচুড়িও পাওয়া যায়। স্পেশাল রান্নার জন্য অর্ডার করতে হবে। তবে তা মিনিমাম ১৫ জনের জন্য।

দাম কেমন?

একটি সুবিধা আছে, যা-ই খাবেন ভাত ও ডাল আপনার জন্য ’আনলিমিটেড’। এ ছাড়া বাকি সবকিছুর জন্য আছে প্যাকেজ। জিনিসপত্রের দামের কারণে মাঝেমধ্যে এই প্যাকেজ ওঠানামা করে। কালু হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কতৃপক্ষ মারফত জানা যায়, বর্তমানে ভাত, ডাল, গরুর কালাভুনা ও তিন পদের সবজি দিয়ে প্যাকেজের দাম ১২০ টাকা, একই প্যাকেজের কালাভুনার বদলে মুরগির ঝাল ফ্রাই নিলে ৯০ টাকা এবং মাছ নিলে ৮০ টাকা।

আর অর্ডার দিলে যেকোনো পদ কমবেশি করে দামেও কমবেশি করা যাবে। হালিম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক জোসনা বেগম বলেন, ’খাবারের দাম তুলনামূলক কম। ক্রেতার চাপ অনেক। সিনেমা না থাকলেও শুটিং তো হচ্ছে। সবাই আমাদের খদ্দের।’

জোছনা বেগম ও হালিম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট: হরেক পদের খাবার তৈরি হয় এই হোটেলে। ২০০০ লোকের জন্য খাবার প্রস্তুত করার অভিজ্ঞতাও আছে। তবে ইদানিং সমস্যাটা হয়েছে, উত্তরায় বিকল্প খাবার দোকান গড়ে ওঠায় তারা একটু বেকায়দায় আছেন। এতোকিছুর পরও খাবারের সুনাম ধরে রেখেছে হালিম হোটেল, জানান জোসনা বেগম।

কালুর রমরমা রেস্টুরেন্ট: হালিমের পুরনো জায়গাটা নিয়েছে কালু। কালু মিয়ার হোটেলে কর্মী আছেন ১৫ জনের উপর। ঘরের জন্য মাসে ভাড়া গুনতে হয় ১৬০০০ টাকা। পারিশ্রমিক মিললে বাবুর্চি নিজেই চলে যান আউটডোরে। সেটা হতে পারে গাজীপুর, সিলেট কিংবা অন্য কোনো স্থান। আলুভর্তা, কালিজিরা ভর্তা, পাঁচমিশালি সবজি, বেগুনভর্তা, চিংরি ভর্তা, লাউয়ের সবজি, ডাল ভুনা, শুটকি ভর্তা, রুই মাছ, কাতল মাছ, মুরগির মাংস, গুরু মাংসের কালা ভুনা প্রভৃতিই কালুর হোটেলের আকর্ষণ।

সালেক মিয়ার হোটেল: নিজেই বাবুর্চি নিজেই মালিক। আগে অন্য হোটেলে কাজ করতেন। এখন নিজেই হোটেল পরিচালনা করছেন। একটু নতুন হওয়াতে কাস্টমারের ভীড় একটু কম হয়। তবে তিনি আশাবাদী।

মাটির চুলায় রান্না হয়:

এফডিসির সকল খাবার মাটির চুলা থেকেই তৈরি হয়। ব্যবহার করা হয় লাকড়ি। এফডিসি এলাকায় গ্যাস নেই। অনেকে বলেন, মাটির চুলায় রান্না হয় বলেই এফডিসির খাবারের এতো স্বাদ।

পঁচা বাসী খাবার আছে নাকি?

এ কথা শোনা যায় না কারও কাছেই। যেমন অস্বীকার করলেরন হোটেলের কর্তৃপক্ষ। তেমনি শিল্পী- কলাকুশলিরা। তরকারিসহ অন্য রসদ আসে কারওয়ান বাজার থেকে। খারাপ খাবার খাওয়াবে! একবার ইজ্জত গেলে সেটা আর কই বা মিলবে।

ভুলে গেলেন কালাভুনার কথা?

এফডিসিতে যে গিয়েছেন। সে যদি কালাভুনা না খায়। তাহলে কীভাবে হবে? তারকাদের কাছেও এই পদ ব্যাপক জনপ্রিয়। জানা যায়, মসলা দিয়ে মাখিয়ে এটা রান্না হয় অনেকক্ষণ ধরে। কালো না হওয়া পর্যন্ত রান্না চলে।

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *