Home / মিডিয়া নিউজ / খুব দুষ্টু ছিলেন মোশাররফ

খুব দুষ্টু ছিলেন মোশাররফ

বোরাদী গরঙ্গল গ্রামে এসেছি। এখানেই শামীম খলিফার বাড়ি। জানি, আপনারা শামীমকে চিনতে পারছেন না।

সবুর করুন। আগে তাঁর বাড়িতে যাই, তারপর নাহয় যে নামে আপনারা তাঁকে চেনেন, সে নামটি বলব।

অবশ্য লেখার সঙ্গে ছবি দেখে আপনারা এরই মধ্যে অনুমান করে নিয়েছেন, আমরা কথা বলছি মোশাররফ

করিমকে নিয়ে। তাই লুকোছাপার দরকার নেই। হ্যাঁ, আপনাদের প্রিয় অভিনেতার গ্রামের বাড়িতেই এসেছি আমরা।

বলে রাখি, বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে নলচিড়া ইউনিয়নে এই গ্রাম। পিংলাকাঠি হাইস্কুল পার হয়ে মোশাররফ করিমের বাড়ি যেতে আরও আধা কিলোমিটার পথ বাড়ি দিতে হয়। বাড়ি পর্যন্ত যেতে ওই আধা কিলোমিটার পথে কোনো রাস্তা নেই। অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দেওয়ার পর একটা বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকো। সেখানে পুরোনো একটি দোতলা টিনের ঘর। বাড়িটি জনমানবশূন্য। দেখলেই বোঝা যায়, এ বাড়িতে কেউ থাকে না। বছরে মাঝেমধ্যে দুই-এক দিন কোনো মেহমান রাত যাপন করতে আসেন।

মোশাররফ করিম, অভিনেতা গ্রামে ডাকেন : শামীম খলিফা গ্রাম: বোরাদী গরঙ্গল উপজেলা: গৌরনদী জেলা: বরিশাল

মোশাররফ করিমের বাড়ির পাশেই থাকেন জুলহাস। বয়স ৪০। তিনি জানান, প্রতিবছর ঈদে শামীম খলিফা বাড়িতে এসে দুই-এক দিন থাকেন। জমিয়ে আড্ডা দেন বন্ধুদের সঙ্গে। করিমের প্রতিবেশী ভাবি ফিরোজা বেগম বলেন, ও (মোশাররফ) প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এলেই গ্রাম ঘুরে দেখেন, এ-বাড়ি ও-বাড়ি ছুটে সবার খোঁজখবর নেন। পুরো গ্রামটি মাতিয়ে রাখেন।

শামীম খলিফার সবচেয়ে পছন্দ হচ্ছে আড়িয়াল খাঁর শাখা নদী পালরদীর তীরে আড্ডা দেওয়া ও নদীতে গোসল করা। শামীম বাড়িতে এলে যে কয় দিন থাকেন, প্রতিদিন তাঁর শত শত ভক্ত, বন্ধুবান্ধব, হিতাকাঙ্ক্ষী বাড়িতে ভিড় জমান। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ছোটবেলায় শামীম খুব দুরন্ত ছিল। ছিল মেধাবী।
মোশাররফ পিংলাকাঠি চিপারটাইপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাস করে পিংলাকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে এসএসসি পাস করেন।

দেখা হলো মোশাররফ করিমের কাছের বন্ধু মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও পল্লিচিকিত্সক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তাঁদের দুজনেরই মন খারাপ। তাঁরা এরই মধ্যে জেনে গেছেন, মোশাররফ এবার ঈদে বাড়ি আসবেন না। পরিবার-পরিজন নিয়ে মালয়েশিয়ায় যাবেন। তাঁরা বলেন, ‘এবারে ঈদে মোগো ইচ্ছা ছিল নৌকা লইয়া বৃষ্টির মধ্যে নদীতে ঘুরে বেড়ানো। তা আর হইল না।’

তাঁদের কথা থেকে উঠে আসে মোশাররফের পারিবারিক জীবন। করিমের বাড়ির কাছেই বড় বোন হেলেনুর রহমান নিজ বাড়িতে বাস করেন। ওই বাড়িতে গেলে হেলেনুর রহমান জানান, তাঁরা পাঁচ ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে শামীম খলিফা (মোশাররফ করিম) চতুর্থ। তাঁর বাবা করিম খলিফা ছিলেন একজন পল্লিচিকিত্সক ও মমতাজ বেগম ছিলেন গৃহিণী। তিনি বলেন, শামীম ছিলেন গ্রামের সেরা দুষ্টু, তার পছন্দের একটি দিক ছিল বন্ধুদের নিয়ে স্কুলমাঠে আড্ডা দেওয়া।

নদীর তীরে ছুটে চলা। করিমের কাছের বন্ধুরা অনেকেই এখন ঢাকায় বসবাস করেন। সহপাঠী নয়, শৈশবে দুষ্টুমির সঙ্গী কৃষক আনোয়ার আকন। আনোয়ার বলেন, ‘শামীম খলিফা মোর একজন ভালো বন্ধু, ওরে নিয়ে মুই খুব গর্ব করি। মোর শামীমরে যহন টিভিতে দেহি তহন বুকটা ভইররা যায়।’ এবারে বাড়িতে ঈদ করতে আসতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে মোশাররফ করিম বলেন, ‘গ্রামের সব আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও ভক্তদের প্রতি ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ঈদ সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক।’

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *