Home / মিডিয়া নিউজ / দুনিয়াতে কি আর সারাজীবন থাকবো? কিছু নিয়েতো কবরে যেতে হবে

দুনিয়াতে কি আর সারাজীবন থাকবো? কিছু নিয়েতো কবরে যেতে হবে

ডলি জহুর। চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক সুভাস চড়ানো ফুল। যাদের মা নেই তাদের হয়তো এ নামটি শুনার

পর একবারের জন্য হলেও মায়ের কথা স্বরণ হয়। কারণ দীর্ঘ দিন যাবত তিনি চলচ্চিত্রে মায়ের চরিত্রে

অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৭৪-৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

অধ্যায়নরত অবস্থা নাট্য দলে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকে মিডিয়ার সব সাঁকোতে তার সরব বিচরণ দেখেছেন ভক্তকুল।

’শঙ্খনীল কারাগার’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী এবং ’ঘানি’ ছবিতে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এখন আর চলচ্চিত্রে নেই শক্তিমান এই অভিনেত্রী। গেল মাসে দ্বিতীয়বার হজ্জ শেষে আহত অবস্থায় দেশে ফিরতে হয় তাকে।

হজ পালন শেষে গেল সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখ তিনি দেশে ফিরেন। মক্কায় হজ শেষে তিনি মদিনায় যেতে পারেন নি তার আগেই দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। প্রায় আট ফিট উপর থেকে পা পিছলে পড়ে মারাত্মক আহত হন।

তিনি বলেন, পা পিছলে প্রায় আট ফিট উপর থেকে পড়ে যাই। একেতো বয়স হয়েছে তার উপর ভারী শরীর, সেখান থেকে পড়ে বুকে পিঠে ব্যাথা পাই, এখনো চাপ একটা ব্যাথা অনুভব করি। ডাক্তার বলল এ ব্যাথা অনেক দিন থাকবে। কারণ বুকের একটা হাড় ভেঙ্গে গেছে, এদিকে আঘাত পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দু’টো নষ্ট হয়ে গেছে।

২০১২ সাল থেকেই চলচ্চিত্র থেকে সরে দাঁড়ান এই কিংবদন্তী। এরপর থেকে নতুন করে আর দেখা যায়নি চলচ্চিত্রে মায়ের চরিত্রে থাকা এই মুখটি। যদিও তিনি ছোট পর্দায় আলো ছড়াচ্ছেন এখনো। চলচ্চিত্র থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সবাইকে জানিয়েই চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নিয়েছি।

২০১২ সালে আর এবার একবার দু’বার হজ্জ পালন করেছি। যখন ২০১২ হজ্জে যাই তার আগেই আমি জানিয়েছি যে হজ্জ পালন শেষে আমি আর চলচ্চিত্রে কাজ করব না। বর্তমান সিনেমার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে ছবি তৈরি হচ্ছে তা একি নিয়মের, গতানুগতিক গল্প থেকে বের হতে পারছে না। এখনতো আরও খারাপ অবস্থা চলচ্চিত্রের। মুলত আমি ধরেই রেখেছি হজ্জ থেকে ফিরে আর কোন সিনেমা করব না।

বাংলা চলচ্চিত্র এখন শিল্পী সংকট। তার মধ্যে অনেকে গত হয়েছেন, যারা আছেন তাদের মধ্যে অনেককেই পর্দায় আর আলো ফুটাতে দেখা যায় না। এ অবস্থায় আপনাদের মত শক্তিমান শিল্পীরা নিজেদের ঘুটিয়ে না রেখে চলচ্চিত্রের স্বার্থে আরও কিছু দিন কাজ করা যেত না? এমন প্রশ্নের জবাবে কিংবদন্তী এই অভিনেত্রী বলেন, আমি কি আর একা এ চলচ্চিত্র দাঁড় করিয়ে রাখতে পারব? এট কি সম্ভব? চলচ্চিত্রের পারিপার্শ্বিক সব কিছু মিলিয়ে ভাল হতে হবে। তা না হলে দুই একজনের চেষ্টায় চলচ্চিত্র আগের অবস্থানে যেতে পারবে না।

রূপালি পর্দা থেকে নিজেকে সরিয়ে আনলেও ছোট পর্দায় কিন্তু আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। তবে সম্প্রতি সময়ে ছোট পর্দা থেকেও ব্যস্ততা কমিয়ে নিচ্ছেন এক সময়ের চলচ্চিত্রে সরব এই অভিনেত্রী ডলি জহুর। এর কারণ হিসেবে জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী জানান, গেল দিনগুলোই ইবাদত বন্দেগী ওতো করা হয়নি, সারাজীবন বইও পড়া হয়নি তেমন। খালি নামাজটা পড়তাম আর কুরআন শরীফ খতম দিতাম আরতো কিছু করতাম না। এখন সেগুলো বুঝে বুঝে পড়তে হচ্ছে, আর ধর্মটাকে ভালভাবে বুঝার চেষ্টা করছি। ইসলামিক কিছু জ্ঞান আরোহণ করছি বই পড়ে পড়ে। দুনিয়াতে কি আর সারাজীবন থাকবো? কিছু নিয়েতো কবরে যেতে হবে। এভাবেই অনেক ভাল যাচ্ছে দিন।

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *