Home / মিডিয়া নিউজ / ‘বাংলাদেশকে তারা গার্মেন্টস ও ক্রিকেটের দেশ ভাবে’:আবদুল আজিজ

‘বাংলাদেশকে তারা গার্মেন্টস ও ক্রিকেটের দেশ ভাবে’:আবদুল আজিজ

(বাঁ থেকে) সামিয়া জামান, আহমেদ মুজতবা জামাল ও আবদুল আজিজ সাগরপাড় ঘেঁষে ও ভিলেজ

ইন্টারন্যাশনালের দিকে গেলে কতো না দেশ দেখা যায়! শুধু নেই বাংলাদেশ! কান চলচ্চিত্র উৎসবের

৭১তম আসরে প্যাভিলিয়ন নিয়ে পতাকা ওড়াচ্ছে বিভিন্ন দেশ। এসব পতাকা পত পত করে উড়তে

দেখি আর অতৃপ্তি তৈরি হয় মনে। সেগুলোর বেশকিছু দেশের ছবি আছে উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে। কিন্তু অফিসিয়াল সিলেকশন নেই বাংলাদেশ।

প্যাভিলিয়ন ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান কান উৎসবের প্রাণকেন্দ্র পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের নিচ তলায় স্টলে স্টলে পসরা সাজিয়ে বসেছে। এখানে অবশ্য কিছুটা অতৃপ্তি ঘুচেছে এবার। কানের বাণিজ্যিক শাখা মার্শে দ্যু ফিল্মে \’পোড়ামন-টু\’ নিয়ে এসেছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার স্বত্বাধিকারী আবদুল আজিজ। তিনি একটি স্টলের কিছু অংশ বরাদ্দ নিয়ে নিজের প্রযোজিত ছবিগুলোর পোস্টার দেখিয়েছেন। সেখানে বসেই গত ১২ মে কানের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় ছবিটির টিজার উন্মুক্ত হয়। এরপর রাত ৮টায় পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের পালে-এফ থিয়েটারে এর প্রদর্শনী হয়।

বেশকিছু ব্যবসাসফল ছবির প্রযোজক আবদুল আজিজ আগামীবার একাই একটি বুথ নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। নিজের কান অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে তিনি বলেন, \’আমাদের দেশের ছবি যদি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে না পারি তাহলে টিকে থাকা কঠিন হবে। কারণ আমাদের নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেছে। ভারতের মতো আমাদেরকেও বহির্বিশ্বের বাজারটা ধরতে হবে। সেই বাজার ধরতে ফিল্ম প্রফেশনালদের নাগাল পাওয়ার জায়গা হলো কান। এখানে সবাই আসে। যেমন চীন, ব্রাজিল, ইরান, কোরিয়ার কয়েকজনের সঙ্গে আমার কথা হলো। বাংলাদেশে সিনেমা হয় শুনলে তারা অবাক হয়! বাংলাদেশকে তারা গার্মেন্টস ও ক্রিকেটের দেশ ভাবে! কিন্তু আমাদের দেশেও যে ভালো মানের সিনেমা হয় তা জানান দিতে হবে। বিদেশের মার্কেটের ক্ষেত্রে শুধু সিনেমা হল নয়, টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করতে হবে। এসব লক্ষ্যে আগামী বছর আরও বড় আকারে কানে থাকতে চাই। একটা বুথ নিয়ে আমার ৪৫টি ছবি ডিসপ্লে করার ইচ্ছে আছে

পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের নিচতলাতেই শর্ট ফিল্ম কর্নারে সোমবার (১৪ মে) থেকে শুরু হয়েছে ছবি দেখা। উৎসবের এই বিভাগে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের চারটি ছোট দৈর্ঘ্যের ছবি। এ তালিকায় আছে জসিম আহমেদের \’অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল\’, মনজুরুল আলমের \’মেঘে ঢাকা- লাইফ উইদাউট সান\’, ইকবাল হোসাইন চৌধুরীর \’রোয়াই\’ ও নোমান রবিনের \’অ্যা কোয়ার্টার মাইল কান্ট্রি\’। এদিন মনজুরুল আলম ছাড়া বাকি তিনজনকেই চোখে পড়লো ভালোভাবে।

নির্মাতা জসিম আহমেদ জানালেন, \’বিষাক্ত প্রেম ও সুবালা\’ নামের একটি ছবির জন্য বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার সঙ্গে ইউরোপিয়ান কো-প্রোডাকশন খুঁজতেই এবার মার্শে দ্যু ফিল্মে তার আসা। মানিক বন্দোপধ্যায়ের ছোটগল্প \’বিউটি\’ ও \’সত্যবান\’-এর ছায়া অবলম্বনে এটি পরিচালনা করবেন ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী।

একইভাবে নিজের আগামী ছবিতে অর্থায়নে উদ্বুদ্ধ করতে কয়েকজন প্রযোজকের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে কানে হাজির হয়েছেন \’লালটিপ\’ ও \’পরবাসিনী\’ খ্যাত স্বপন আহমেদ। তিনি কানে নিয়মিতই পা রাখেন।

দুই তরুণ নির্মাতা সুমন দেলোয়ার ও সুমিতকে নিয়ে এসেছেন ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জিং ফিল্ম ট্যালেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইইএফটিএ) সভাপতি সামিয়া জামান। বাংলাদেশের উদীয়মান চলচ্চিত্রকারদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তার সংগঠনটি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশের (আইএফআইবি) মিলে চালাচ্ছে \’ঢাকা টু কান\’ প্রকল্প। তিন দিনের এই কার্যক্রমে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র পরিচালক, চলচ্চিত্র নির্বাহী ও চলচ্চিত্র শিল্পের প্রভাববিস্তারকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ পেয়েছেন সুমন ও সুমিত।

সাগরপাড়ে আইইএফটিএ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বললেন সামিয়া জামান। তার ভাষ্য, \’কয়েক বছর আগেও কানের মতো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের কাউকে পাইনি। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে অংশগ্রহণ বাড়ছে। অনেকে বলতে পারেন, আরেকটু সময় নিয়ে আসা দরকার। কিন্তু আমি বলবো, এখানে এলেই সময়টা হয়ে যাবে। নতুনদের জন্য কান উৎসব শিক্ষণীয় একটি মঞ্চ।\’

লাল সবুজ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কানে আরও এসেছেন চলচ্চিত্র সংগঠক আহমেদ মুজতবা জামাল। তিনি বললেন, \’কানে এসে বুঝতে পারছি, বাংলাদেশের সিনেমা বা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল নিয়ে মানুষের কৌতূহল আছে। আমাদের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আসতে ইতোমধ্যে অনেকে কথা দিয়েছেন। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন ইতিবাচক একটা ফল আসবে।\’

ঢাকা থেকে এসেছেন সাংবাদিকরাও। বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল থেকে কান উৎসব কাভার করছেন কামরুল ইসলাম রিফাত (যমুনা টিভি), নাজমুল আলম রানা (চ্যানেল টোয়েন্টিফোর), আদর রহমান (প্রথম আলো), আলমগীর কবির (নায়া দিগন্ত) ও পার্থ সঞ্জয় (একাত্তর টিভি)। রোজ উৎসবের প্রাণকেন্দ্রে প্রেস রুম অথবা তেরেস দো জার্নালিস্টসে তাদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আড্ডাও জমছে কাজের ফাঁকে।

সব মিলিয়ে ফরাসি উপকূলে বাংলাদেশের একটা সুবাস মিলছে। গত তিন বছরে বাংলাদেশের একাধিক ছবি অংশ নিয়েছে মার্শে দ্যু ফিল্মে। তৌকীর আহমেদের \’অজ্ঞাতনামা\’ ও অমিতাভ রেজার \’আয়নাবাজি\’র কথা মনে পড়ছে। কিন্তু কানে প্রতিযোগিতার সুযোগ না পাওয়ার অতৃপ্তি থেকেই যায়।

অফিসিয়াল সিলেকশনের ইতিহাস এখনও গড়া হয়নি বাংলাদেশের। কেবল ২০০২ সালে তারেক মাসুদের \’মাটির ময়না\’ ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে স্থান পেয়েছিল। এর সুবাদে কানে ফিপরেস্কি পুরস্কারও জেতে ছবিটি। এছাড়া গতবারের আসরে সিনেফঁদাসিউ বিভাগে নির্বাচিত হয় কামার আহমাদ সাইমনের \’দ্য ডে আফটার টুমরো\’র চিত্রনাট্য। এর সুবাদে তিনি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। এই ছবি হয়তো কানে অফিসিয়াল সিলেকশন হবে। এ তালিকা আরও দীর্ঘ হবে, সেই আশায় আমরা দিন গুনি।

এবারের কান উৎসবের অফিসিয়াল পোস্টার সাজানো হয়েছে যার ছবির দৃশ্য নিয়ে, সেই ফরাসি চলচ্চিত্রকার জ্যঁ লুক গদার চিন্তাশীল একটি কথা বলেছিলেন। চলচ্চিত্র নিয়ে তার মন্তব্য ছিল, \’সিনেমা অনেকটা ফিলিস্তিনের মতো। উভয়ে স্বাধীনতা খুঁজে বেড়াচ্ছে।\’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে কথাটিকে এভাবে বলা যায়, কান উৎসবের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি খুঁজে ফিরছে আমার সোনার বাংলা। হয়তো একদিন কান সৈকতের হাওয়ায় বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে লাল-সবুজ পতাকা উড়বে, বুকে সেই আশা বেঁধে রাখি। সূত্র:banglatribune

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *