Home / মিডিয়া নিউজ / অভিনয়টা আমার কাছে সবসময় সেকেন্ড জব

অভিনয়টা আমার কাছে সবসময় সেকেন্ড জব

ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুমানা রশীদ ঈশিতা। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি যুক্ত অভিনয়ে। একটা সময়ে

নাটক কিংবা টেলিফিল্মে নিয়মিত দেখা যেত তাকে। কিন্তু পারিবারিক জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায়

এখন বিশেষ দিবসগুলো ছাড়া তাকে টিভি পর্দায় দেখা যায় না। ২৫ জুলাই, বুধবার দুপুরে রাজধানীর

ধানমন্ডিতে \’পাতা ঝরার দিন\’ নাটকের শুটিং শুরুর আগে এমন বাস্তবতার কথা জানান ঈশিতা।

আধা ঘণ্টার ওই আলাপে ঈশিতা তার ব্যক্তিগত জীবন ও অভিনয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। আলাপের শুরুতে অভিনয় থেকে দূরে সরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, \’আমার জীবনে অনেক ভালো ভালো কাজের প্রস্তাব পাওয়ার পরও সেগুলো করা হয়নি। আর না করার পেছনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কারণও ছিল। আমি অভিনয় ক্যারিয়ারটাকে কখনোই ওভাবে গুরুত্ব দিইনি। হয়তো দেওয়া উচিত ছিল।

অভিনয়টা আমার কাছে সবসময় সেকেন্ড জব, আর ফার্স্ট জব ছিল আমার ব্যক্তিজীবনটা সাবলীল রাখা। সেভাবেই চলেছি এখনো, ওভাবেই চলছে। আর আমি ভালো কাজের সুযোগ পাইনি, তা বলব না; আমি সুযোগের সদ্ব্যবহার করিনি।\’

ঈশিতা নিজের ব্যবসা ও পরিবারকে সময় দিতে গিয়ে দীর্ঘ চার বছর ছোট পর্দা থেকে দূরে ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে বিরতি ভাঙে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা সৌমিত্র চট্টেপাধ্যায়ের বিপরীতে একটি নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে।

চ্যানেল আইয়ের ঈদ আয়োজনে ফারুকী এবং ভাই ব্রাদার এক্সপ্রেসের নাটকগুলোতে থাকছে নানা চমক। এ আয়োজনে ছোট ও বড়পর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা রেদওয়ান রনি নির্মাণ করছেন নাটক \’পাতা ঝরার দিন\’। ওই নাটকে অভিনয় করছেন ঈশিতা।

এ বিষয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী জানান, চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে কিংবা এপ্রিলে নাটকটির নির্মাতার সঙ্গে কাজটি করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল তার। এরপর তারা নাটকটিতে কাজ করা নিয়ে বেশ কয়েকবার বসে আলাপ-আলোচনাও করেন। তারপর অভিনয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

\’রনি আমাকে প্রথমে চিত্রনাট্যটা দেয়নি। ও আমাকে বলল, \’\’আমরা দেখা করে বসে কথা বলি, আপনার বুঝতে আরেকটু ভালো হবে\’\’। রনির সঙ্গে আমি প্রথম দিন যেদিন মিটিং করি ও গল্প বলার পর আমার মনে হচ্ছিল, আমি আমার চোখের সামনে সব দেখতে পাচ্ছি। তখন মনে হচ্ছিল, যে করেই হোক কাজটা করতে হবে। এ কাজটা করতে হবে\’, বলেন ঈশিতা।

এক প্রশ্নের জবাবে ঈশিতা বলেন, \’যদি ভালো চিত্রনাট্য পাই, তাহলেই কাজ করব-বিষয়টা এমন নয়। সময়টা আমার অনুকূলে থাকতে হবে। কারণ আমার দ্বিতীয় বাচ্চার বয়স মাত্র আড়াই বছর। আমার প্রথম বাচ্চার সময় এসব নিয়ে আমাকে চিন্তা করতে হয়নি। কারণ তখন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল।

আমার মায়ের শরীরটা খারাপ, যার কারণে আমি ওই দিকটাতে মনোযোগ বেশি দিচ্ছি। আর মা কিংবা শাশুড়ির দিক থেকে যেমন আস্থা পাওয়া যাবে, অন্য কোথাও থেকে তা পাওয়া যায় না। আমার মা যদি আগের অবস্থায় থাকতেন কিংবা আমার কাছের মানুষগুলো যদি আগের অবস্থানে থাকতেন, তাহলে আর এসব নিয়ে ভাবতে হতো না।\’

ধানমন্ডির চার নম্বর সড়কের একটি মার্কেটে \’পাতা ঝরার দিন\’ নাটকের শুটিং চলছিল সেদিন। সেখানেই কথা হয় এ অভিনেত্রীর সঙ্গে। চার দিনের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, \’রনির সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। ও তো সর্বজনবিদিত একজন নির্মাতা। আর যে টিমটার সঙ্গে কাজ করছি, সেটাও খুব ভালো লাগছে। একদল তরুণ-মেধাবী ছেলে-মেয়ে, যারা সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজটা করছে।\’
যখন ঈশিতার সঙ্গে তার গাড়ির ভেতরে বসে কথা হচ্ছিল, বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি। তার কাছে প্রশ্ন ছিল, \’জীবনের এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে ব্যাখ্যা করবেন কীভাবে?\’

\’শোবিজে আমার কোনো বেস্ট ফ্রেন্ড নেই, কাছের কোনো মানুষ নেই, পরম কাছের কোনো আত্মীয়ও নেই। যা আছে, সবাই আমার পরিবার জীবনের। গত ২৯ বছর ধরে আমি কাজ করছি। মধ্যিখানে চার বছর গ্যাপ ছিল। শুরু থেকেই আমি এভাবে মেনটেইন করে চলছি। আমি সবসময় এটাকে কাজের একটা অংশ হিসেবে দেখেছি\’, উত্তরে বলেন ঈশিতা।

\’কর্মক্ষেত্রটাকে আমি সবসময় ভালোবাসার একটা ক্ষেত্র হিসেবে দেখেছি। মিডিয়াতে সার্কেল বলতে যেটা বোঝায়, সেটা আমার কখনো ছিল না। তবে নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন আর ফেরদৌসী মজুমদার আমাকে সবসময় মেয়ের মতোই স্নেহ করতেন\’, যোগ করেন ঈশিতা।

প্রতিদিনকার জীবনে নিজেকে নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় ঈশিতাকে। সমাধানও মিলে যায়। তার ভাষ্য, \’সব জায়গা থেকে সৌজন্যমূলক দৌরাত্ম্য বজায় রাখার চেষ্টা করি। সে জন্য আমার লাইফে খুব অসাধারণ কোনো ঘটনাও নাই, আবার খুব নিম্নমানের কোনো ঘটনা নাই।

আমার জীবন একভাবে চলে যাচ্ছে। আমার ভবিষ্যতেও তাই ইচ্ছা। আমি সবসময় মাথায় রাখি আজ যদি এমন কোনো কাজ করি, তার জন্য সাফারার হতে হয়। সে দিক থেকে নিজেকে আমি সবসময় দূরে রাখি।\’

কথা হয় নাটকের হালচাল নিয়েও। ভালো-মন্দ-অভিযোগের মতো দিক নিয়েও আলাপ হয়। সে বিষয়ে ঈশিতা বলেন, \’একটা জায়গা যখন বড় হতে থাকে, তখন সেখানে যেমন ভালো ভালো ব্যাপারগুলো ঢুকে, অল্প কিছু খারাপ বিষয়ও ঢুকে। একটা ইন্ডাস্ট্রি যদি টিকে থাকে, তখন বুঝতে হবে ভালোর পরিমাণটাই বেশি।

খারাপ বিষয় দিয়ে একটা বড় জায়গা টিকে থাকতে পারে না। পজিটিভ বিষয়গুলোর সঙ্গে আমার নেগেটিভ বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারি, যাতে বিষয়গুলো টিকে থাকে। শুধু যদি আমার নেগেটিভ নিয়া এত আলোচনা করি, তাহলে যারা দীর্ঘদিন ধরে পজিটিভ বিষয় নিয়ে কাজ করছে, তাদের তো মন ভেঙে যাবে।\’

\’পাতা ঝরার দিন\’ নাটকের শুটিং সেরেই ঈশিতা যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন তিন সপ্তাহের জন্য। যাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, তার ভাই যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তার কাছে বেড়াতে যাবেন। এটি পারিবারিক ভ্রমণ। -প্রিয়.কম

About Nusraat

Check Also

‘আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না’, নীলা চৌধুরীকে শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৪ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *